২০২৬ বিশ্বকাপ চীনা দর্শকেরাও দেখতে পারবেন।

 

বিশ্বকাপ শুরুর এক মাসেরও কম সময় আগে চীনে সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটল। ফিফার সঙ্গে সম্প্রচার চুক্তিতে পৌঁছেছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির মূল প্রতিষ্ঠান চায়না মিডিয়া গ্রুপ, সিএমজি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় হতে যাওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপ চীনা দর্শকেরাও দেখতে পারবেন।

চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নয়। প্যাকেজের আওতায় আছে ২০২৬ ও ২০৩০ সালের পুরুষ বিশ্বকাপ, পাশাপাশি ২০২৭ ও ২০৩১ সালের নারী বিশ্বকাপও। মূল ভূখণ্ড চীনে টিভি, অনলাইন ও মোবাইল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রচার অধিকার পেয়েছে সিএমজি।

ফিফা এর আগে জানিয়েছিল, বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে বিশ্বের ১৭৫টির বেশি অঞ্চলে চুক্তি হয়ে গেলেও চীন ও ভারতের বাজারে আলোচনা চলছিল। এত বড় বাজারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থাকা ছিল অস্বাভাবিক। চীনে আগের বিশ্বকাপগুলোতে সিসিটিভি অনেক আগেই স্বত্ব নিশ্চিত করে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেছিল।

চীনের পুরুষ দল বিশ্বকাপে খেলেছে মাত্র একবার, ২০০২ সালে। তবে দেশটিতে ফুটবল দর্শকের সংখ্যা বিশাল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে প্রায় ২০ কোটি মানুষ ফুটবল অনুসরণ করেন। তাই সম্প্রচার চুক্তি না হলে ফিফা ও চীনা দর্শক—দুই পক্ষের জন্যই বড় ধাক্কা হতো।

চুক্তির আর্থিক অঙ্ক প্রকাশ করা হয়নি। তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সমর্থনপুষ্ট সংবাদমাধ্যম দ্য পেপারের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, শুধু ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য প্রায় ৬ কোটি ডলার। এর আগে চীনা স্বত্ব নিয়ে ফিফার উচ্চ মূল্য চাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল।

চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া পড়ে। রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়েইবোতে খবরটি দ্রুত ট্রেন্ডিং তালিকার শীর্ষে ওঠে এবং ৪৫ মিনিটের মধ্যে ২ কোটি ৭০ লাখের বেশি ভিউ পায়। অনেক সমর্থক স্বস্তি প্রকাশ করেছেন, কারণ তারা আশঙ্কা করছিলেন এবার হয়তো বৈধভাবে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে জটিলতা তৈরি হবে।

২০২৬ বিশ্বকাপ শুরু হবে ১১ জুন। ৪৮ দলের সবচেয়ে বড় এই আসর চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। টুর্নামেন্টের এত কাছে এসে চীনের মতো বড় বাজারে সম্প্রচার চুক্তি হওয়ায় ফিফার জন্যও বড় স্বস্তি এল। আর চীনের কোটি কোটি দর্শকের জন্য নিশ্চিত হলো বিশ্বকাপ দেখার পথ।

Post a Comment

0 Comments

লোড হচ্ছে...