অষ্টাদশ সংশোধনীর জন্য বিএনপি যে সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছে, তাতে সমাধান দেখছে না জামায়াতে ইসলামী। গণভোট অনুযায়ী সংস্কার হবে– এ প্রতিশ্রুতি ছাড়া কমিটিতে অংশ নিতে চায় না জামায়াত। একই অবস্থান এনসিপিরও।
দল দুটির ১১ দলীয় ঐক্যের ভাষ্য, গণভোট বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া কমিটিতে অংশগ্রহণ হবে বিএনপির অবস্থানকে বৈধতা দেওয়া মাত্র। আবার সংখ্যালঘু ১১ দলের কোনো দাবি পূরণ হবে না, যা জোটের এতদিনের রাজনৈতিক অবস্থানকে নষ্ট করবে। এর চেয়ে গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে অব্যাহত রাখা রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হবে। তবে এখনই
কমিটি বর্জনের ঘোষণা না দিয়ে, শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।
গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী, জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কারের দাবিতে কাল শনিবার থেকে চতুর্থ দফার কর্মসূচি শুরু হবে। এদিন রাজশাহীতে শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে সমাবেশ করবে ১১ দল। ২৫ জুলাই পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ হবে। এরপর সমাবেশ হবে রাজধানীতে। এসব সমাবেশ থেকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, বিশেষ কমিটি নয়, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানানো হবে।
সংবিধান সংশোধনে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। গত ২৯ এপ্রিল সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠকে তিনি বলেন, ১৭ সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। এর মধ্যে সাতজন হবেন বিএনপির এমপি। গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে পাঁচজন হবেন কমিটির সদস্য। বিরোধী দল থেকে আরও পাঁচজন সদস্য থাকবেন।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সেদিন সংসদে বলেন, কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের ধারণাগত ভিন্নতা আছে। তারা এ প্রস্তাবটি নিজেরা আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবেন। বিরোধী দল চেয়েছে সংস্কার, কিন্তু সরকারি দল করতে চাচ্ছে সংবিধানের সংশোধন। এই মতপার্থক্য ছিল, এখনও রয়েছে।
সেদিন আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলের সিদ্ধান্তের জন্য পরবর্তী অধিবেশন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে অসুবিধা হবে না।
আগামী ৫ জুন সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। এর আগে কমিটির জন্য নাম দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের।
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর জন্য ২০১০ সালে গঠিত সংসদের বিশেষ কমিটিতে যোগ দেয়নি তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি। আওয়ামী লীগের সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীকে চেয়ারম্যান এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে কো-চেয়ারম্যান করে গঠিত ১৫ সদস্যের ওই কমিটিতে জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি এবং জাসদের একজন করে এমপি ছিলেন। বিএনপি থেকে তিনজন সদস্য নেওয়ার প্রস্তাব করেছিল তৎকালীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ।
এই কমিটি সংবিধানে ৫১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল। এতে সংবিধানে জাতির পিতা বিধান যোগ করা, গণভোট বাদ দেওয়া, সংবিধান সংশোধনকে কঠিন করা, সংবিধান লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানের মতো সুপারিশ ছিল। তবে ছিল না তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলোপের সুপারিশ।
পরিবর্তী সময় আদালতের রায়ের নজির দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেন। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, এতে কমিটির ১৫ সদস্য আগেই অবস্থান বদলে ফেলেন। সর্বসম্মতিক্রমে সুপারিশ করেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলোপে।
0 Comments